
গ্রামীণ জনপদের নিরাপত্তা রক্ষা থেকে শুরু করে অপরাধ প্রতিরোধ এবং স্থানীয় প্রশাসনের বিভিন্ন কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন গ্রাম পুলিশ সদস্যরা। অথচ দীর্ঘদিন ধরে সীমিত বেতন-ভাতা, অনিশ্চিত চাকরি, চিকিৎসাসুবিধার অভাব ও অবসরকালীন নিরাপত্তাহীনতার মতো নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে তাঁদের। এসব সমস্যা সমাধান এবং পেশাগত মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিতে এবার দেশব্যাপী বৃহৎ সমাবেশের প্রস্তুতি নিয়েছেন গ্রাম পুলিশ সদস্যরা।
আয়োজকদের ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামী ৭ নভেম্বর ২০২৬, শনিবার সকাল ৮টায় ঢাকার জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে এ মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে দেশের ৬৪ জেলার গ্রাম পুলিশ সদস্যদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কাছে দাবি বাস্তবায়নের প্রত্যাশা
গ্রাম পুলিশ সদস্যদের প্রত্যাশা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও পেশাগত সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকারী এই কর্মীদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও আশা করছেন তাঁরা।
যেসব দাবিতে এক হচ্ছেন গ্রাম পুলিশ সদস্যরা
মহাসমাবেশকে সামনে রেখে তাঁদের উত্থাপিত উল্লেখযোগ্য দাবিগুলো হলো—
১. দায়িত্ব ও কর্মঘণ্টার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন-ভাতা বৃদ্ধি।
২. চাকরির স্থায়িত্ব ও নিয়োগসংক্রান্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা।
৩. সরকারি কর্মচারীদের অনুরূপ সুযোগ-সুবিধা প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা।
৪. বিনামূল্যে বা স্বল্প ব্যয়ে চিকিৎসাসেবা ও স্বাস্থ্যবিমা চালু করা।
৫. ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালনের জন্য ঝুঁকি ভাতা প্রদান।
৬. অবসরকালীন ভাতা, পেনশন অথবা বিকল্প আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৭. প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, পোশাক ও আধুনিক সরঞ্জাম সরবরাহ করা।
৮. কর্মক্ষেত্রে যথাযথ সম্মান ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা।
গ্রামীণ নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত তাঁরা
গ্রাম পুলিশ সদস্যরা ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে তৃণমূল পর্যায়ে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য সংগ্রহ, সন্দেহজনক পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রশাসনকে অবহিত করা, সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে সহযোগিতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে জননিরাপত্তা রক্ষায় তাঁদের ভূমিকা রয়েছে।
বিশেষ করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে প্রশাসনের সঙ্গে সাধারণ মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হিসেবে কাজ করেন তাঁরা। ফলে তাঁদের দায়িত্বের গুরুত্ব বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে।
অধিকার আদায়ে ৬৪ জেলার সদস্যদের ঐক্যের ডাক
আসন্ন মহাসমাবেশ সফল করতে দেশের বিভিন্ন জেলার গ্রাম পুলিশ সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আয়োজকরা। তাঁদের মতে, দীর্ঘদিনের ন্যায্য দাবিগুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরতে সম্মিলিত উদ্যোগের বিকল্প নেই।
তাঁরা শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক উপায়ে নিজেদের দাবি উপস্থাপনের প্রত্যাশা করছেন। এই সমাবেশের মাধ্যমে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের আর্থিক সংকট, কর্মক্ষেত্রের ঝুঁকি এবং ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার বিষয়গুলো জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অবহেলার অবসান চান তৃণমূলের এই নিরাপত্তাকর্মীরা
গ্রামীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের জীবনমান উন্নয়ন ও পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের দাবিগুলো যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে স্থানীয় সরকার বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে।
গ্রাম পুলিশ সদস্যদের আশা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের কাছে তাঁদের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো গুরুত্ব পাবে। ন্যায্য বেতন, চাকরির নিশ্চয়তা, চিকিৎসাসেবা ও অবসরকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে তাঁরা আরও উদ্যম ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দেশের গ্রামীণ নিরাপত্তায় অবদান রাখতে পারবেন।
মহাসমাবেশের সময়সূচি
তারিখ: ৭ নভেম্বর ২০২৬, শনিবার
সময়: সকাল ৮টা
স্থান: জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ড, ঢাকা
অংশগ্রহণ: দেশের ৬৪ জেলার গ্রাম পুলিশ সদস্যরা।
প্রত্যাশার স্লোগান:
“অধিকার চাই, মর্যাদা চাই—গ্রাম পুলিশের নিরাপদ ভবিষ্যৎ চাই।”
দীর্ঘদিনের দাবি ও প্রত্যাশার বাস্তব প্রতিফলন ঘটবে—এমন আশায় মহাসমাবেশে দেশের সব জেলার গ্রাম পুলিশ সদস্যদের অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।